নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে হাদিস

নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে আমরা অনেক শুনেছি৷ নামাজ আদায় আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি এবাদত যা মুসলিমদের জন্যে বাধ্যতামূল। এ নামাজ আদায়ে আখেরাতে এর পাশাপাশি দুনিয়াতেও কল্যাণ রয়েছে।

.

ভূমিকা 

নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে অনেক  শুনলে ও সঠিক তথ্য টা হয়তো আমরা জানি না আজকে জানবো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাঁচটি পুরস্কার  এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ না পড়ার শাস্তি এই নিয়ে আজকে আমার পোস্ট টি। আপনারা এই পোস্টটি পড়লে নামাজের কিছু কথা জানতে পারবেন। সঠিক তথ্য পড়তে এই পোস্ট টি শেষ পযন্ত পড়ুন।

নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত আল কাউসার 

আল্লাহ তায়ালা বলছেন তুমি সঠিক সময়ে প্রতিদিনের নামাজ প্রতিদিন আদায় করো। নামাজ বেহেস্তের চাবি হে বান্দা তুমি নামাজকে কাজের দোহায় দেখায়ো না। কাজ যেকোনো সময় করতে পারবে কিন্তু নামাজের সময় শেষ হয়ে গেলে নামাজ পড়তে পারবেনা। সেক্ষেত্রে তুমি কাজ ফেলে নামাজ পড়ো প্রতিদিনের সালাত প্রতিদিন আদাই করো এবং সর্বদা  পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করো।

নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে বলা হয়েছে নামাজ মুমিনদের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর কাছে মর্যাদাশীল মুমিন ব্যাক্তি সেই যে প্রতিদিনের নামাজ প্রতিদিন কায়েম করে। নামাজকে কোন ওযোহাত দেখাই না। প্রকৃত মুমিনদের বন্ধু কারা কেবল তিন শ্রেণীর কথা বলা হয়েছে (ক)আল্লাহ (খ)রাসুল (গ)মুমিনগণ। নামাজ পড়লে আল্লাহ আমাদের শয়তানদের থেকে হেফাজতে রাখেন।

আরও পড়ুন : ছেলেদের ও মেয়েদের আধুনিক ইসলামিক নাম অর্থসহ


সূরা আল কাউসার কোরাণে বণিত ১০৮ ত সূরা,এটার আয়াত সংখ্যা ৩ টি।এটা মক্কায় অবতীর্ণ। কাউসারের আরবি অর্থ প্রাচুর্য। এই সূরা টি এশার নামাজের পর পড়লে অনেক ফজিলত পাওয়া যায় এবং যেকোনো বিপদের সময় এই সূরাটি পড়ে থাকেন অনেকে আবার কারো মৃত্যু সময় ও তাকে এই সূরা টা বলতে বলা হয়।

৫ ওয়াক্ত নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত 

আপরা নিশ্চিয়ই উপরে জেনে এসেছেন নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে হাদিস টি। এখন আপনাদের আপনাদের জানাবো ৫ ওয়াক্ত নামাজ কেনো এত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ফজিলত সম্পর্কে বার্তা দিয়েছেন এবং তিনি ও ৫ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নামাজ সম্পর্কে হাদিসে বলছেন কিয়ামতের দিন সর্ব প্রথম হিসাব নিকাশ হবে নামাজের। যে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করবে সে সফলতা লাভ করবে।

নামাজ যদি না পরে তাহলে সে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বলা যেতে পারে সালাতি সকল আমলে মূল চাবিকাঠি।নামাজ পড়লে আমাদের আপদ বিপদ হয় না। আমাদের শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে। 

৫ ওয়াক্ত নামাজের ৫ টি পুরস্কার 

নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ যে ব্যাক্তি আদায় করবে ঠিক মত আল্লাহতালা তাকে বিভিন্নভাবে পুরস্কৃত ও সম্মানিত করবে। তার কিছু ফজিলত হলো 
  1. ওই ব্যক্তির সংসারের অভাব অনটন দূর করবেন
  2. জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করবেন 
  3. কবরের গুরআজাব হইতে রক্ষা করবেন 
  4. আমলনামা দেবেন ডান হাতে 
  5. জান্নাতে প্রবেশ করাবেন বিনা হিসাবে 

নামাজ না পড়ার শাস্তি 

নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে হাদিস জেনেও যারা নামাজ কায়েম করবে না। আল্লাহ তায়ালা তাদের যে শাস্তি গুলো দিয়ে থাকেন। আমরা অনেকেই আছি যারা কাজের দোহাই দিয়ে আমরা নামাজ পড়তে চাই না। আজ নয় তো কাল পর্ব নামাজ এরকম কথাই অনেকে বলে থাকি।কিন্তু আমরা কি জানি নামাজ না পড়লে দুনিয়াতেও আল্লাহতালা আমাদের শাস্তি দিয়ে থাকেন। নামাজ আদায় করা প্রতিটি মুসলিমদের বাধ্যতামূলক। নামাজ ছাড়া একাল ও পরকাল মুক্তি অসম্ভব।

নিশ্চয়ই নামাজ অশ্লীল ও অন্যায় কাজ থেকে দূরে রাখে (সূরা আনকাবুত, আয়াত নং ৪৫) নামাজ না পড়লে দুনিয়াতেও যে শাস্তিগুলো দিয়ে থাকেন দুঃখ কষ্ট অভাবন একটু অন্য হতাশা আপদ বিপদ অন্যের ভালো করলেও নিজেকে খারাপ ভাবে। যারা নামাজ পড়ে না তাদের চেহারায় কোন নূরের আলো থাকে না। নামাজ না পড়লে যদি কেউ দোয়া করে তাহলে সেই দোয়া কবুল হয় না। মৃত্যুর পর তাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন। 

আরও পড়ুন :  চোখের বিভিন্ন রোগ ও তার প্রতিকার 

নামাজ পড়লে আল্লাহতালা খুশি হন।পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে আমাদের ভালো গুলো হয়। গুনা মাফ হয়,নূরের আলো আমাদের চেহারায় থাকে, আপদ বিপদ থেকে রক্ষা করেন, শরীর স্বাস্থ্য ভালো থাকে, অসুখ বিসুখ কম হয়, দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়, অভাব অনটন দূর করেন,সংসারে আয় বরকত দায় ইত্যাদি সৎ পথে থাকলে অল্প দিনেই সবার কাছে বড় মনের মানুষ হওয়া যায়।

অসৎ পথে থাকলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বড় মনের মানুষ হওয়া যায় না। তাই আমরা সকলে চেষ্টা করব সৎ পথে থাকার এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কায়েম করা। 

জাহান্নামীদের শাস্তি 

কুরআনে বর্ণিত কেয়ামতের দিন জিজ্ঞেস করা হবে জাহান্নামীদের কেন তোমরা জাহান্নামে এলে? তখন জাহান্নামীরা বলবে আমরা সময়ের অভাবে নামাজ পড়তে পারি নাই।আমরা গরীব মিসকিনদের খাবার দেইনি, আমরা ফকিরদের ভিক্ষা দেইনি, অনেক অসহায়দের দেখেও না দেখার ভান করেছি, অসৎ পথে থেকেছি, মিথ্যা কথা বলেছি, হারাম ভাবে চলেছি ইত্যাদি।

তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেন হে বান্দা আমি কি তোমাকে মিথ্যা কথা বলতে,হারাম ভাবে চলতে, গরীব মিসকিনদের দেখে ও না দেখার ভান করতে, ফকিরদের ভিক্ষা না দিতে, অসৎ পথে থাকতে এইসব কি করতে বলেছিলাম। তখন বান্দা বলবে হে রাবুল আলামিন তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও আমি ঐই দুনিয়াতে টাকার মায়ায় অন্ধ হয়েছিলাম কোন টা ন্যায় কোন অন্য, ভালো মন্দ, ইহকাল পরকাল সম্পর্কে কিছু বুঝতে পারি নাই।

তখন আল্লাহ তায়ালা বলবেন হে বান্দা তুমি নামাজ পড়নি, গরীব মিসকিন দের ছদকা দাওনি, তুমি কোন একটা ভালো কাজ করোনি যেটার জন্য তোমাকে জান্নাতে দিব।তোমার চক্ষু কান থাকতে ও তুমি শয়তানকে প্রশ্রয় দিয়েছো। তাই তোমাকে জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করা হবে। তখন সেই ব্যাক্তি অনেক চিতকার করে বলবে আল্লাহ গো আমাকে ক্ষমা করে দাও।

আমাকে একটা সুযোগ দাও। তখন সে কোন সুযোগ পাবেনা।তাই হে প্রিয় মুসলিম ও মুমিনগণ এখনো সময় আছে যা নামাজ পড়ছোনা তারা নামাজ পড়ো।

শেষ কথা

আমি চেষ্টা করেছি নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে হাদিস টির কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথার তুলে ধরার। আশা করছি এই পোস্ট টি মন যোগ সহকারে পড়ছেন। আমার এই পোস্টটি ভালো লেগে থাকলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করবেন ও আমার ওয়েবসাইটে নিত্য নতুন পোস্ট পড়তে পারেন প্রতিদিন। ধন্যবাদ এই পোস্ট টি কিছু ক্ষণ সময় দিয়ে পড়ার জন্য। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url